রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১৫ ফাল্গুন, ১৪২৭ | ১৫ রজব, ১৪৪২

সর্বশেষ

প্রচ্ছদ উপজেলা সংবাদ

বদরখালীতে প্রকাশ্যে ঘুরছে ধর্ষণ মামলার আসামী আনছার: গ্রেফতারের দাবি


প্রকাশের সময় :১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ৪:৩৭ : অপরাহ্ণ
ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে প্রকাশ্যে ঘুরছে নারী নির্যাতন ও ধর্ষন মামলার আসামী আনছার হোসেনসহ তার সহযোগীরা। তাদের বিরুদ্ধে ২টি নারী নির্যাতন ও ধর্ষন মামলা থাকলেও রহস্যজনক কারণে ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে বহু অপকর্মের হোতা আনছারসহ তার আশ্রয়দাতাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নির্যাতনের শিকার নাসরিনের পিতা পশ্চিম বাহারছড়ার নিবাসী মহি উদ্দিন জানান, চকরিয়ার বদরখালী ৪নং ওয়ার্ডের রাজার পাড়ার (খালকাচা পাড়া) আবদুল জব্বারের পুত্র আনছার একজন নারী লোভী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, নারী নির্যাতন ও ধর্ষক। বিগত ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর সকাল ৫ দিকে আমার মেয়ে নাসরিন আক্তার (১৭) বাহারছড়া বাড়ি থেকে ফজরের নামাজ শেষে হাটতে বের হলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসী আনছারসহ তার বাহিনী তাকে জোরপূর্বক অপরহরণ করে নিয়ে যায়। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেয়েকে না পেয়ে ঘটনার ৪ দিন পর সন্ত্রাসী আনছার উদ্দিন আমাকে কল দিয়ে নাসরিনকে সে অপরহণ করেছে বলে স্বীকার করে। এসময় মেয়ের জন্য তার কাছে না যাওয়ার জন্য হুমকী দেয়া হয়। এছাড়া যদি মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশ কিংবা কাউকে জানালে জানে মেরে ফেলার ধমকী দেয় আনছার। তবুও আমি মেয়েকে আনতে বদরখালীতে আনছারের বাড়িতে গেলে সে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে। আমার মেয়েকে সে জোরপূর্বক আটকিয়ে অসংখ্যবার ধর্ষণ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। ফলে আমি নিরূপায় হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি অবহিত করি। অভিযোগ দিয়েও আমি কোন প্রতিকার না পেয়ে নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল—১ কক্সবাজার আদালতে অপহরণকারী আনছার উদ্দিনের বিরুদ্ধে গত ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর জোরপূর্বক অপরহরণ ও ধর্ষন মামলা দায়ের করি। যার মামলা নং—২৪৮/২০। মামলার আসামীরা হলো—আনছার উদ্দিন, তার ভাই নেছার উদ্দিন, পিতা আবদুল জব্বার ফকির ও মা রাহেনা বেগম। মামলা দায়ের করার পর পুলিশসহ গিয়ে আনছারের কাছ থেকে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে আনি। এ ঘটনায় আনছারের পিতা আবদুল জব্বারকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু তারপরও আনছার আমাকে নানাভাবে প্রাণে মারার হুমকী দিতে থাকে। এতে আমি জীবনের নিরাপত্তার জন্য গত ২৪/১১/২০২০ইং পুলিশ সুপার বরাবর একটি আবেদন করি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, ধর্ষক আনছারের কাছ থেকে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে ৩ মাস পর মাতারবাড়ির সাইরার ডেইল আবুল কাশেমের পুত্র আনোয়ারের সাথে বিয়ে দিই। কিন্তু বিয়ে দেয়ার পরও আনছার আমার মেয়ের ও তার স্বামীকে হত্যা ও অপরহণের নানান হুমকী দিয়ে আসছিল। যার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারী আমার মেয়ে তার স্বামী আনোয়রসহ কক্সবাজার থেকে শাশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে মাতারবাড়ি যাওয়ার পথে তাদের ফের অপরহণ করে সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী আনছার ও তার বাহিনী। অপহরণের পর আমার মেয়েকে আবারও ধর্ষণ ও শারীরিক—মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। সেই সাথে তার স্বামী আনোয়ারকেও আলাদা করে বেধে বেধম প্রহার করে। বিষয়টি আমি জানার পর গত ২০ জানুয়ারী চকরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনছার বাহিনীকে না পেয়ে চলে আসে। ওইসময় বদরখালীর লম্বা ফরিদ ও মাদুর পুত্র ফটো সিকদার আমাকে হুমকী দিয়ে জানায় যে, স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে সন্ত্রাসী আনছারের সাথে বিয়ে দিতে আমার মেয়েকে। নতুবা ৫ লাখ টাকা দিয়ে মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে যেতে। টাকা না দিলে তাদের গুম করে হত্যা করা হবে বলে হুমকী দেয়া হয়। পরে মাতারবাড়ির চেয়ারম্যান মাস্টার মাহমুদুল উল্লাহ ও বদরখালীর আনছারের মূল আশ্রয়দাতা ভুট্টো সিকদার আমার মেয়ে ও তার স্বামীকে উদ্ধার করার কথা জানায়। আমি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর আমার মেয়ের ডিএনএ টেস্ট শেষে চকরিয়া থানায় গত ২২ জানুয়ারী আনছারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করা হয়। ওই ঘটনায় আরও অনেক আসামীদের মামলা থেকে রহস্যজনকভাবে বাদ দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মহি উদ্দিনের মেয়ে নাসরিন ও তার স্বামী আনোয়ার বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অপরহরণকারী ও ধর্ষক আনছার উদ্দিনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পর পর ২টি নারী—শিশু ও ধর্ষণের মামলা দায়ের হলেও আজ অবদি কোন আসামী আটক হয়নি। আসামী আটকে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। উল্টো চকরিয়া থানার এসআই জাহাঙ্গীর আমার মেয়ের বিয়ে কাবিন নামার টোকেন নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছে না। আমার মেয়ে ও জামাতাকে উদ্ধারের সময় এসআই জাহাঙ্গীর, বদরখালীর ভুট্টো সিকদার মামলা না করার জন্য হুমকী দেই।
মূলতঃ আনছারের প্রধান আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা মৃত নুর কবিরের পুত্র ভুট্টো সিকদার, মৃত মাদু সিকদারের পুত্র ফটো সিকদার, আবদুল জলিলের পুত্র ছোটন  ও লম্বা ফরিদ। তাদের মদদেই ধর্ষক আনছার অপহরণ, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। বতর্মানে তাদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে আমার মেয়েকে এসিড নিক্ষেপ, অপরহণ ও ধর্ষণের হুমকী দিয়ে আসছে। এছাড়া মামলা প্রত্যাহার না করলে আমার পুরো পরিবারকে জানে মেরে ফেলারও হুমকী দেয়া হচ্ছে। ধর্ষক আনছারের ভাষ্য এই যে, তার বিরুদ্ধে ৫০ মামলা করলেও তাতে তার কিছু যায় আসে না। এমতাবস্থায় আমি নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলার আসামী বদরখালীর শীর্ষ সন্ত্রাসী আনছার উদ্দিন ও তার আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে মহি উদ্দিনের ভাই হেলাল উদ্দিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর