শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১ | ২৭ চৈত্র, ১৪২৭ | ২৭ শাবান, ১৪৪২

সর্বশেষ

প্রচ্ছদ কক্সবাজার

প্রসঙ্গ হে-ফা-জ-তে ই-স-লা-ম এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়া ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা


প্রকাশের সময় :৩ এপ্রিল, ২০২১ ৪:২৩ : পূর্বাহ্ণ

কলাম
ইশতিয়াক আহমেদ জয়:
২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মনবাড়িয়া ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা দেখে গত দু রাত আমি ঘুমাতে পারি নাই…
দেশের একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে আমার মনে প্রশ্ন এসেছে —

গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তান্ডব চালানোর পর আজ আবার কিভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলাম ?
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে …
২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া ইতিহাসের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের বাস্তব চিত্রের ছিটেফোঁটা ও উঠে আসেনি কোথাও। ব্রাম্মনবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া হেফাজতের তাণ্ডবলীলা ’৭১ সালের পাকবাহিনীর নির্মমতাকেও হার মানিয়েছে।
২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাম্মনবাড়িয়া ধ্বংসযজ্ঞের একটা তালিকা দেখে গত দু রাত আমি ঘুমাতে পারি নাই।
ভাবছেন মোল্লাদের ভয়ে আমি ঘুমাতে পারিনি ?? ওহে না, ভয়টয় ওসব কিছু না

আমি ঘুমাতে পারিনি প্রচন্ড লজ্জায় রাগে ক্ষোভে আর হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হওয়ার কারণে …
কিভাবে বিশ্বাস করবো …
যেদিনটিকে ঘিরে আমাদের এতো অপেক্ষা, এতো প্রতীক্ষা …
যেইদিনটিতে আমরা পৃথিবির বুকে পঞ্চাশ বছরের টগবগে যুবক ,যেদিন আমাদের ইতিহাসের পরম মাহেন্দ্রক্ষন আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী সেইদিনটিকেই বেঁচে নিলো ওরা হেফাজতে ইসলাম নামক বর্বর উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী টি…???
ব্রাম্মনবাড়িয়া ধ্বংসযজ্ঞের শুধু একটা নমুনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো …
ব্রাম্মনবাড়িয়া জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার–
১৯৮৩ সালে এর যাত্রা শুরু হয়।২০১২ সালের ২৪ জুলাই নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয়।গ্রন্থাগারটিতে গবেষণাধর্মী বই, রেফারেন্স বই, পুরনো পত্রিকা ছাড়াও শিশু কর্নার, বঙ্গবন্ধু কর্নার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কর্নার, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন কর্নার ছাড়াও কবিতা ও সাহিত্যের হাজারো বই ছিল। পুড়ে ছাই হয়েছে সব বই। তিন দিন ধরে বাতাসে কেবল বইয়ের পোড়া গন্ধ।
হামেলার প্রায় পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার গণগ্রন্থাগারের ধ্বংসস্তূপ দেখে হাউমাউ করে কান্নাকাটি করছেন অনেকে। কেউ কেউ বলছেন, ’৭১ সালের পাকবাহিনীর তান্ডবকেও হার মানিয়েছে হেফাজতের এই ধ্বংসযজ্ঞ।
ইসলামের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী বই কোরান ,হাদিস, তাফসীর, আকিদাহ, ফিকাহ, ইসলাম মনীষীদের জীবনী ধর্মী বই হিন্দু বৌদ্ধ দের গীতা বাইবেল সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দলিল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে । ব্রাম্মনবাড়িয়া জেলা সরকারি গ্রন্থাগারে ২৩ হাজার বই ছিল।
এইবার আসল কথায় আসি,
হে -ফা- জ- তে ই- স- লা- ম ……….
উত্থানের পর থেকে এরা কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার কোনো কর্মসূচি নেয়নি। শুধু নিজেদের স্বার্থের প্রয়োজনে ইসলামের নামে দুর্বল ব্যাখ্যা দিয়ে অনুসারী ও সাধারণ মুসলমানকে উত্তেজিত করে অনৈসলামিক কাজ করে যাচ্ছে। হেফাজত নেতারা ইসলামী লেবাস গায়ে জড়িয়ে আগেও অনেক নৈরাজ্য করেছেন,যা কোনোভাবে ই ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশ করে না।
মোটেও তুলনীয় নয়, তবু বলব এ দেশে যাঁরা ইসলাম প্রচার করেছেন, মুসলিম সমাজ বিস্তারে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ছিলেন সুফি। ইসলামে সৌন্দর্য ধারণ করে তাঁরা এগোতেন। মানবতাবাদী ছিলেন তাঁরা। আল্লাহপ্রেম ও মানবপ্রেম ছিল তাঁদের ধর্ম প্রচারের মূল শক্তি।
কিন্তু এ সময়ের লেবাসি হেফাজতি নেতারা নিজেদের স্বার্থে তৈরি করছেন নৈরাজ্য। পরিকল্পনার অংশ বলে হঠাৎ উপর্যুপরি ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
ভাস্কর্য বিরোধী ইস্যু নিয়ে তাণ্ডব, ছদ্মবেশী চেহারা নিয়ে ভিন্ন ধর্মের মানুষদের বাড়িঘর ও ধর্ম মন্দিরে ভাঙচুর, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিয়ে তাণ্ডব—এর একটিরও সঙ্গে কি ইসলামী আদর্শের মিল রয়েছে?আপনারাই বলুন !!!এই প্রশ্নের উত্তর আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম …
২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাম্মনবাড়িয়া ধ্বংসযজ্ঞের তালিকাটি নিম্নে দিলাম যেই তালিকা দেখে গত দু রাত আমি ঘুমাতে পারি নাই …
* বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি
* শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ ভাষা চত্বর
* ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন
* আব্দুল কুদ্দুস মাখন মুক্তমঞ্চ
* জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার
* কালীবাড়ি মন্দিরের প্রতিমা
* ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব
* জেলা পরিষদ ভবন
* পুলিশ সুপারের কার্যালয়
* জেলা পুলিশ লাইন
* সার্কিট হাউস
* ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়
* সদর উপজেলা ভূমি অফিস
* সিভিল সার্জনের কার্যালয়
* মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়
* ডিসির বাসভবন
* এসপির বাসভবন
* জেলা জজের বাসভবন
* সরাইলে হাইওয়ে থানা
* সদরের খাঁটিহাতা থানা
* রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি
* সদর থানাধীন দুই নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি
* জেলা আনসার-ভিডিপি কার্যালয়
* ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়
* জেলা প্রশাসন আয়োজিত উন্নয়ন মেলা
* জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স
* ব্যাংক এশিয়া
* ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশন
* ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস
* শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয়
* মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র
* দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়
* প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামির ওপর হামলা
* চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের প্রতিনিধি রিয়াজ উদ্দিনের ওপর হামলা
* জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়
* জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের কার্যালয় ও বাড়ি।
*মেয়র মিসেস নায়ার কবির এর বাস ভবন।
* জেলা আওয়ামীগ নেতা ও আয়কর উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার কার্যালয়
* জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেলের বাড়ি
* জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের বাড়ি
* বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার অফিস।
* বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিমা মুকাই আলীর শহরের হালদারপাড়ার বাসভবন।
* জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম খোকনের বাসভবন।
*জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম নেছার চৌধুরীর বাস ভবন।
এছাড়াও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ফাঁড়িতে থাকা ১৮টি মাইক্রোবাস এবং মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া সিভিল সার্জন, মৎস্য কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদ কার্যালয়ের মধ্যে থাকা প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর তিনটি গাড়ি ভাংচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
—————————-
মাই পয়েন্ট অফ ভিউ ইজ। বিচারের ভার দেশের জনগণের আমাদের কিছু বলার নাই…
লেখক : কেন্দ্রীয় সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর