বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২ | ১৫ আষাঢ়, ১৪২৯ | ২৯ জিলকদ, ১৪৪৩

সর্বশেষ

প্রচ্ছদ জাতীয়

এবারের নির্বাচনে প্রশাসনকে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ: শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে কৌশলী ইসি


প্রকাশের সময় :২২ নভেম্বর, ২০২১ ২:৩৭ : অপরাহ্ণ

সীভিউ ডেস্ক:
আগামী ধাপগুলোতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আরো শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে নানা কৌশলী পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই লক্ষ্যে প্রার্থীদের পক্ষে ভোটের মাঠে নামায় আইনপ্রণেতাদের (এমপি) সতর্ক করে চিঠি দিচ্ছে কমিশন। এরই মধ্যে বর্তমান সংসদের দুজন এমপিকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এবার এর সঙ্গে যুক্ত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়ার কথা ভাবছে কমিশন। চলতি সপ্তাহে এ চিঠি ডিসি, এসপিসহ ইসির জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হতে পারে। লক্ষ্য একটাই—ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাৎক্ষণিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া। একই সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া।

ইসি সূত্র মতে, ইউপি নির্বাচন ঘিরে যাতে সহিংসতা ও পরিবেশ বিনষ্ট না হয়, সেজন্য দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে সভা করে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা-সংক্রান্ত চিঠি দিতে চায় ইসি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একজন নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনকালে আইনপ্রণেতারা (এমপি) অতি-প্রয়োজনের বাইরে যাতে ইউপি নির্বাচনী এলাকায় ঘোরাফেরা না করেন। একই সঙ্গে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে মঞ্চে উঠে ভোট প্রার্থনা না করেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকেন। এ বিষয়গুলো দক্ষতা ও কৌশলের সঙ্গে মোকাবিলা করেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেজন্য তাদের সতর্ক করতে ওই চিঠি দেওয়া হবে। চিঠিটি হবে, সাধারণ ফরমেটের (কমন) বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, এটা সব জেলাপর্যায়ে যাচ্ছে। সেখানে জেলা নির্বাচন অফিসার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) থাকবে। কমিশনের উদ্দেশে সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় গেলে বিষয়গুলো যেন তাৎক্ষণিক কমিশনকে জানানো হয়, ওই তাগিদ থাকবে চিঠিতে।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন বা কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে যেন আমাদের তাৎক্ষণিক অবহিত করেন। অনেক সময় বিভিন্ন বিষয় মাঠপর্যায় থেকে আমাদের তাৎক্ষণিক জানান না। আমরা সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর থেকে তথ্যটি জানতে পারি।’ তিনি আরো বলেন, ‘সামনে হয়তো আরো সংসদ সদস্যদের আমরা চিঠি দেব আমাদের কাজে সহযোগিতা করার জন্য। যথাসময়ে আপনারা এ বিষয়ে জানতে পারবেন। সংসদ সদস্যরা নোটিস দেওয়ার পরও যদি আচরণবিধি না মানেন, সে ক্ষেত্রে স্পিকারের কাছেও চিঠি দেওয়া হতে পারে। তবে এখনো আমাদের কাছে এ ধরনের তথ্য নেই’, যোগ করেন তিনি।

জানা যায়, সামনের নির্বাচনগুলো যাতে আরো ভালোভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে ইসি। এরই মধ্যে দুজন সংসদ সদস্যকে (সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামসুল হক টুকু এবং কিশোরগঞ্জ-৫-এর সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন) নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার জন্য চিঠিও দিয়েছে কমিশন। এর আগে ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গত ৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সব বিভাগীয় কমিশনার, উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে অনলাইনে মিটিং করে ইসি। সেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসির আছে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

এ ছাড়া সম্প্রতি পুলিশ কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা কমিশনকে জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এবার মাঠ প্রশাসনকে চিঠি দেওয়ার কথা ভাবছে কমিশন। কারণ অনেক নির্বাচনী এলাকায় নৌকা প্রতীকের বাইরে ভোট না দিতে বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়ে মাঠ গরম করছেন কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা। এসব বিষয়ে ইসিকে কঠোর হতে বাধ্য করছে। এমনকি কমিশন বিব্রত হচ্ছে। কারণ সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, সহিংতায় একজন মানুষের প্রাণ যাক, সেটা কমিশনের কাম্য নয়।
এক তফসিলে দুদফায় (২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর) প্রথম ধাপের ৩৬৯টি ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। গত ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর ১০০৭টি ও চতুর্থ ধাপে ২৩ ডিসেম্বর ৮৪০টি ইউপিতে নির্বাচন হবে। চলতি সপ্তাহে পঞ্চম ধাপের তফসিল দেওয়া হতে পারে বলে ইসি সূত্র নিশ্চিত করেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও খবর