সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০২২ | ২৪ শ্রাবণ, ১৪২৯ | ৯ মহর্‌রম, ১৪৪৪

সর্বশেষ

প্রচ্ছদ কক্সবাজার

শহরের টেকপাড়ায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দূর্বৃত্তদের জায়গা দখলঃ হামলায় আহতরা আসামি হয়ে এলাকা ছাড়া 


প্রকাশের সময় :২৮ জুন, ২০২২ ৮:৩৫ : অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া মসজিদ রোডে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে চিহ্নিত ভূমিদুস্য দূর্বৃত্ত কর্তৃক জনসাধরণের ব্যবহৃত পানীয় জলের নলকূপের ইস্যুকে ব্যবহারের মাধ্যমে জায়গা দখলের পাশাপাশি হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের মিথ্যা অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার আতংকে এলাকা ছাড়া হয়েছেন ৮ টি পরিবারের অন্তত ২৫ জন নারী-পুরুষ। অনেকে দিন কাটাচ্ছেন অনাহারে-অর্ধাহারে।
রোববার (২৬ জুন ) বিকাল সাড়ে ৫ টায় কক্সবাজার শহরের পশ্চিম টেকপাড়া মসজিদ রোডে এ ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে গত ২৩ জুন বিকালে জনৈক মুফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল দূর্বৃত্ত হামলা চালায়। এতে আহত হন মৃত মকবুল আহমদ কন্ট্রাক্টরের ছেলে আব্দুল জব্বার, আব্দুল নাঈম ও সাকিব হোসেন কাদেরী সহ আরও ২/৩ জন।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে মুফিজুুর রহমানের নির্দেশে ও ইন্ধনে হামলা এবং জায়গা জবরদখলের এ ঘটনা ঘটেছে। এতে জড়িত অন্যরা হল, মো. ফজল ওরফে কেড়া ফজল, শাহাব উদ্দিন (৪৭), মোহাম্মদ আবু (৩৫), সাফকাত শাহারিয়ার (২৪), মো. আসফাক (২০) সহ আরও ৬/৭ জন দূর্বৃত্ত।
ভূক্তভোগী মৃত মকবুল আহমদ কন্ট্রাক্টরের ছেলে আব্দুস সাত্তার বলেন, অন্তত ৭০ বছর আগে স্থানীয়দের পানীয় জলের সংকট নিরসনে জনস্বার্থে তার বাবা নিজের ভোগদখলী জায়গায় একটি কূয়া নির্মাণ করেন। কূয়াটি স্থানীয়ভাবে ‘সাহেব কূয়া’ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে মানুষের ব্যবহারের চাহিদা না থাকায় কূয়াটির স্থলে আধুনিক নলকূপ স্থাপনা করা হয়েছে। নলকূপটি জনস্বার্থে ব্যবহৃত হওয়ায় তদস্থিত জায়গাটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিজেদের খতিয়ানভূক্ত করে।
অভিযোগ করে এ ভূক্তভোগী বলেন, ” জনস্বার্থে ব্যবহৃত নলকূপটি পরিচালনায় কথিত ব্যবস্থাপনার নামে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির কুমানসে দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দা মুফিজুর রহমান। এরই অংশ হিসেবে গত ৩/৪ মাস আগে তিনি চিহ্নিত দূর্বৃত্তদের নিয়ে নলকূপটির তদস্থিত আমাদের কিছু খালি জায়গা জবরদখলের চেষ্টা চালান। কিন্তু আমার স্বজনদের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
” এ নিয়ে গত ৮ জুন আমার বড় ভাই আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার এম আর মামলা নম্বর- ২৭৬/২০২২ এবং স্মারক নম্বর- ১৮৭৯/২০২২। আদালত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে বিরোধীয় জায়গায় অনাধিকার প্রবেশসহ সবধরণের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। “
আব্দুস সাত্তার বলেন, ” গত ২০ জুন কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিভাস কুমার সাহা আদালতের আদেশনামা বিবাদীদের কাছে পৌঁছেন দেন। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জায়গা দখলের উদ্দ্যেশে গত ২৩ জুন বিকালে সংঘবদ্ধ দূর্বৃত্তদের নিয়ে মুফিজুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে বাধা দিলে উভয়পক্ষে কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় আমরা অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। কিন্তু বিবাদীদের পাল্টা অভিযোগে মামলা হওয়া আমার এখন এলাকা ছাড়া। “
তিনি অভিযোগে বলেন, মুফিজুর রহমান জনস্বার্থে ব্যবহৃত নলকূপটির পরিচালনা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পানীয় জলের বাণ্যিজে মেতে উঠেছে। পাইপের মাধ্যমে বিভিন্ন বাসা-বাড়ীতে মাসোহারার ভিত্তিতে পানি সরবরাহ করছেন। এছাড়াও জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে নলকূপটির উন্নয়নের নামে টাকায় আদায় নিজে আত্মসাৎ করেছেন।
এখন নলকূপটিকে ইস্যু বানিয়ে ভূক্তভোগীদের মালিকাধীন জায়গা দখল করেছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুস সাত্তার।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ” প্রতিপক্ষের কথিত মামলার আসামি হওয়ায় গ্রেপ্তার আতংকে আমরা এলাকা ছাড়া। রোববার বিকালে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুফিজুর রহমানের নির্দেশে ও ইন্ধনে তার সহযোগী দূর্বৃত্তরা সশস্ত্র অবস্থায় নলকূপ সংলগ্ন আমাদের পতিত খালি জায়গা জবরদখল নিয়েছে।এমনকি এলাকায় ফিরলে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে ৮ টি পরিবারের অন্তত ২৫ জন নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার আতংকে এলাকা ছাড়া রয়েছেন। পাশাপাশি এসব পরিবারের লোকজন অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। “
এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারি সংস্থা সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আব্দুস সাত্তার।
 অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে মুফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে কল দেওয়া হলে স্ত্রী রুবি রিসিভ করেন।
রুবি বলেন, তার স্বামী কথিত অভিযোগকারিদের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফোনে কথা বলা তার (স্বামী) পক্ষ সম্ভব নয়।
এসময় জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তি কোনভাবেই জায়গা দখলে সম্পৃক্ত নন। প্রতিপক্ষের লোকজন মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও খবর