বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১ | ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ | ৩০ রমজান, ১৪৪২

সর্বশেষ

প্রচ্ছদ কক্সবাজার

কক্সবাজারে লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কড়াকড়ি


প্রকাশের সময় :৫ এপ্রিল, ২০২১ ৩:৩২ : অপরাহ্ণ

সাইফুল ইসলাম:
সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারেও মরণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত সাত দিনের লকডাউন বাস্তবায়ন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন তৎপর হয়ে উঠেছে।
নানা বিধিনিষেধ মধ্যদিয়ে সাত দিনের ‘লকডাউনের প্রথমদিন আজ।
সোমবার (৫ এপ্রিল) লকডাউনের প্রথম দিনে কক্সবাজার শহরে কিছু দোকানপাট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। প্রধান সড়কে সীমিত সংখ্যক ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ও নিত্যপন্যবাহী কাভার্ড ভ্যানের চলাচল চোখে পড়েছে।

তবে জরুরি পরিসেবায় নিয়োজিত সরকারি এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। কক্সবাজার থেকে দুরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরে অধিকাংশ বড় মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে ওষুধের দোকান, মুদির দোকান সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দোকান খোলা রয়েছে।

লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে রয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ। সকাল থেকে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা প্রশাসক সহ প্রশাসনের চারটি টিম লকডাউন কার্যকর করতে এবং স্বাস্থ্য বিধি মানতে প্রচারণা চালিয়েছে। দ্রব্যমুল্য স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়েছে। লকডাউনের প্রথমদিনে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে কক্সবাজারে শহরের প্রধান সড়ক, বড় বাজারসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ।
এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শ্রাবস্তী রায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো: আমিন আল পারভেজ, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময়  মাস্ক পরিধান নিশ্চিতকরণ সহ অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে অবস্থানরতদের ঘরে ফিরে যেতে মাইকিং করার পাশাপাশি বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সতর্ক করে দেয়া হয়। অপরদিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক সহ বিভিন্ন রোডে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ রাখতে জেলা পুলিশের নেতৃত্বে ট্রাফিক পুলিশ বাস টার্মিনাল, লিংক রোড সহ কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে তৎপরতা চালিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, সংক্রমনের উর্ধ্বগতি কমাতে সাতদিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আমরা কাজ করছি। এখানে আমাদের চারটি টিম আছে। আমাদের পুলিশ বিভাগের সমস্ত কর্মকর্তা এখানে কাজ করছেন। আমরা নিজেরাও এটা মনিটরিং করছি।’
অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে প্রায় এক বছর পর আবার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণের পথে যেতে হলো সরকারকে।গত বছর সংক্রমণ কমাতে ঘোষণা করা হয়েছিল সাধারণ ছুটি, যেটির কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।
মহামারীকালে দীর্ঘ সময় ধরে সংক্রমণের হার কম থাকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ছন্দ ফিরতে শুরু করে। তবে সর্বক্ষেত্রে গতি পাওয়ার এ সময়টাতে স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষায় ঢিলেঢালা হতেই মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। অব্যাহত ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের এ ধারা সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত শনিবার লকডাউনের ঘোষণা দেয় সরকার।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর